প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 29, 2026 ইং
পীরগঞ্জের ইউএনওর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ, ‘রসিকতা’ বললেন বিএনপি নেতা পরিচয় নিয়ে

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদারের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করার বিষয়টি ‘রসিকতা’ ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদারের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, সংবাদকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা এবং উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। সম্প্রতি নিজেকে বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে ওই পরিচয় দেওয়ার ঘটনাকে ‘রসিকতা’ বলে উল্লেখ করেন ইউএনও।
স্থানীয় সূত্র ও একাধিক সরকারি কর্মকর্তার অভিযোগ, দাপ্তরিক বৈঠক এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে গোলাম রব্বানী সরদার নিজেকে বিএনপির স্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে কথা বলার সময়ও তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা বলে দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ইউএনওর দপ্তরে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাওয়া কিংবা প্রতিকার চাইতে গেলে তাঁদের দুর্ব্যবহারের মুখে পড়তে হয়। রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে দমিয়ে রাখার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
উপজেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুর্তজা আলম অভিযোগ করে বলেন, ইউএনও সাধারণ মানুষকে যথাযথ সম্মান দেন না। তাঁর দপ্তরে প্রবেশের অনুমতি পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনুমতি পেলেও বসার সুযোগ মেলে না বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, টাকা ছাড়া কাজ হয় না এবং টাকা পেলে আচরণ ভালো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির এক নেতা বলেন, ইউএনও শিক্ষকদের সঙ্গেও তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ করেন। তাঁর আচরণে শিক্ষক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় সংবাদকর্মী বাদল হোসেনের অভিযোগ, ইউএনও গোলাম রব্বানী নিজেকে বিএনপির ক্যাডার হিসেবে বিবেচনা করেন এবং কথায় কথায় অন্যদের উপদেশ দেন। তবে ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন বলে দাবি করেন বাদল হোসেন।
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা খয়রাত আলী অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান ছাড়া অন্যদের সঙ্গে ইউএনও ভালো আচরণ করেন না। তাঁর সঙ্গেও একাধিকবার খারাপ আচরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া সার ডিলার নিয়োগ এবং টিআর-কাবিখাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও তোলেন খয়রাত আলী। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইউএনও সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন। কর্মচারীদের গালিগালাজ এবং বদলি বা সাময়িক বরখাস্তের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিসিএস কর্মকর্তা বলেন, সরকারি কার্যালয়ে পেশাদার ও সেবামুখী পরিবেশ থাকার কথা। কিন্তু পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনে কর্মকর্তাদের মধ্যে চাপের পরিবেশ বিরাজ করছে বলে তাঁর অভিযোগ। এ পরিস্থিতিতে অফিসার্স ক্লাবে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও কমে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবু সায়েম বলেন, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও পরিচয় ব্যবহারের বিষয়টি বিধিবিধানের আলোকে বিবেচ্য। তাঁর অভিযোগ, পীরগঞ্জের ইউএনও প্রকাশ্যে রাজনৈতিক পরিচয় প্রচার করে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের আস্থার সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদার। তিনি বলেন, ‘আমি কারো সঙ্গে অসদাচরণ করিনি, নিয়ম মেনে চাকরি করছি।’ নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি রসিকতা করে বলেছি।’
সূত্র: কালের কণ্ঠ
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দিনের সংবাদ অনলাইন