
দেশের পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো আরও কার্যকর করতে ২০২৫ সালের মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
দেশের পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের বিকাশ, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫’ পর্যালোচনা করছে বিএসইসি। এ বিষয়ে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ে বিএসইসির নিজস্ব কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
সভায় বিএসইসির কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল), নিবন্ধিত মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি, সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি এবং কাস্টোডিয়ানসহ পুঁজিবাজারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় বিএসইসির ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের প্রধান নির্বাহী পরিচালক মো. মাহমুদুল হক ‘রিভিউ অন দ্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) রুলস, ২০২৫’ শীর্ষক একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা দেন। এতে বিদ্যমান বিধিমালার বিভিন্ন দিক এবং সম্ভাব্য সংশোধনের ক্ষেত্র তুলে ধরা হয়।
অংশীজনেরা মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন মতামত, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, অংশীজনদের মতামত কমিশনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও সংশ্লিষ্ট সবার মতামত বিবেচনা করেই বিধিমালা সংশোধনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় তিনি বর্তমান কমিশনের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, কেবল ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করে টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তোলা সম্ভব নয়। দেশের পুঁজিবাজারকে গতিশীল করতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে মিউচুয়াল ফান্ড খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিনিয়োগ শিক্ষা ও আর্থিক সাক্ষরতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।