
পটুয়াখালীর দশমিনায় ৩৪ বছর ধরে বসবাস করেও খাসজমির বন্দোবস্ত না পাওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন উত্তর চর শাহজালালের ভূমিহীন পরিবারগুলো। খাসজমি বন্দোবস্ত, কথিত ভুয়া বন্দোবস্ত বাতিল ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা।
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার উত্তর চর শাহজালাল মৌজায় দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে বসবাসরত ভূমিহীন পরিবারগুলোর নামে খাসজমি বন্দোবস্তের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে কথিত ভুয়া ও বেআইনি বন্দোবস্ত বাতিল এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন ভূমিহীন পরিবারের সদস্যরা। ‘উত্তর চর শাহজালাল বসবাসরত ভূমিহীন পরিবার’-এর আয়োজনে এবং বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
স্মারকলিপিতে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, উত্তর চর শাহজালাল মৌজায় দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে বসবাস ও ভোগদখলে থাকা প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলোর নামে অবিলম্বে খাসজমি বন্দোবস্ত দিয়ে স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করা, প্রভাবশালী চক্রের নামে করা কথিত ভুয়া ও বেআইনি বন্দোবস্ত বাতিল এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।
স্মারকলিপি দেওয়ার আগে দশমিনা উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন শত শত ভূমিহীন নারী-পুরুষ। পরে তাঁরা উপজেলা পরিষদের সামনে সমবেত হয়ে সমাবেশ করেন।
ভূমিহীন নেতা বারেক সর্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বদরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক জায়েদ ইকবাল খান, বাংলাদেশ কিষাণী সভার কেন্দ্রীয় কমিটির সভানেত্রী ও দশমিনা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ডা. সামসুন্নাহার খান ডলি, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সহসাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার হাওলাদার এবং সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক ও পটুয়াখালী জেলা সাধারণ সম্পাদক কায়েস মাহমুদ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ নয়া মিয়া শিকদার, মাওলানা শহিদুল ইসলাম, ভূমিহীন নেতা ছোহরাব হোসেন, ছোহরাব বয়াতি, শহিদুল মেম্বার, রেজাউল করিম, জহিরুল খা ও কুলসুম বেগমসহ অন্যরা।
স্মারকলিপি গ্রহণের সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষয়টি সংবেদনশীল ও জনগুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
ভূমিহীন পরিবারগুলোর ন্যায্য অধিকার ও স্থায়ী আবাসনের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ।